যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের কাছে লেখা মার্কিন কংগ্রেসের ৬ সদস্যকে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে কংগ্রেস অব বাংলাদেশি আমেরিকান ইনকরপোরেশন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিঠি দেওয়া ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠিটি অসত্য বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি ওই চিঠির তথ্যের সত্যতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
শনিবার পাঠানো সে চিঠিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ,ব্যবসায়ি, মার্কিন সরকারি উচ্চপদে কর্মরত বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তরুণসহ ২৬৭জন ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে ভুল তথ্য দেয়ায় আমেরিকায় বসবাসরত বাঙ্গালীরা মর্মাহত হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসাবসরত বাঙ্গালীরা তাদের চিঠিতে জানিয়েছেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারী-পুরুষের সমধিকার, নারী উন্নয়ন প্রগতি, ধর্মীয় সহিষ্ণুতাকে বিবেচনা না করে খুবই সংকীর্ণ আর একচোখাভাবে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামসহ বাংলাদেশ বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে লবিস্ট ফার্ম দিয়ে এসব অপপ্রচার চালিয়ে থাকে।
সংগঠনের সদস্যরা চিঠিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বক্তব্য সংযোজন ও স্থিতিশীল সম্প্রীতির উল্লেখ করে, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশী খ্রিষ্টান কমিউনিটি প্রধানের বক্তব্য এবং তাদের অবস্থানকে তুলে ধরা হয়। যেখানে সরকারের নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে সকলেই সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা, অবদান এবং অর্জনগুলো তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের হয়ে শান্তিরক্ষা করতে গিয়ে অনেকে আত্মত্যাগ করেছেন। একইসাথে চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল অংশগ্রহণকে নিষিদ্ধ করার দাবি কোনোভাবেই নীতি-নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিঠিতে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিশ্ব মানবতা রক্ষায় ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু আশ্রয় দেয়। এত বিশাল সংখ্যক উদ্বাস্তু পৃথিবীর আর কোনো দেশ একসাথে আশ্রয় দেয়নি। মানবিক এমন কাজের জন্য জাতিসংঘ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “মাদার অব হিইউমিনিটি” হিসাবে স্বীকৃত দেয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আমেরিকান হিসাবে অবস্থানরত বাঙ্গালীরা ২৪৭ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে। কিন্তু, আমেরিকায় গণতন্ত্রব্যবস্থা, মানবিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার নিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সে তুলনায় ৫২ বছর বয়সী বাংলাদেশের চেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং মানবিক চারটি উন্নয়নের ৪টি দিক উল্লেখ করা হয় চিঠিতে—-
সেখানে বলা হয়েছে, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় টানা ৫ বার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কার্যকর ও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের নানা পর্যায়ে দুর্নীতি কমে আসছে ক্রমান্বয়ে। অবৈধ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি ও অন্যান্য স্বৈরশাসক শাসকের আমলে দুর্নীতির শিকড় এত গভীরে বিস্তার লাভ করেছিল, রাতারাতি তা নির্মুল করা সম্ভব নয়!
‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ সামরিক শাসকদের দুঃশাসন ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে। দীর্ঘদিন সামরিক শাসিত একটি দেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কোনো সহজ কাজ নয়। তারপরেও বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক মানের গণতান্ত্রিক ভাবধারায় বাংলাদেশকে উন্নত করতে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারা বিরোধী মতকে দমন-নিপীড়ন ও হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছিল বিএনপি-জামাতসমর্থিত ও সামরিক শাসকদের আমল থেকে। সেখান থেকে বাংলাদেশকে আইনের শাসনে ফিরিয়ে এনে সন্ত্রাস-মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার।
সবশেষ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং একইসাথে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মার্কিন বন্ধুদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার উপরে নির্ভর করে। বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত সমর্থিত সরকার গঠিত হয়, তাহলে এ অঞ্চলে মৌলবাদের বিস্তার লাভ করবে। ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের জন্যও হুমকিস্বরূপ। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত সরকারের ছত্রছায়াতেই এ অঞ্চলে ইসলামি জিহাদি আর সন্ত্রাসী গোষ্ঠির প্রশিক্ষণ ও সদরদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যেটি ছড়িয়ে পড়েছিল দক্ষিণ পূর্ব ভারতের ৭ টি রাজ্যে।